Who is Alloh – আল্লহ্ কে?

আল্লহ্‌ সম্পর্কে উপলব্ধি করার সর্বোত্তম পথ হলো – কুরআনুম মাজীদ ও হাদীস এবং মুহাম্মাদ ﷺ-এর সাহাবাবর্গের উপলব্ধি।

আল্লহ্‌ আমাদেরকে অস্থায়ী জীবনে একটি অর্থপূর্ণ জীবন যাপনে উপযুক্ত করার জন্য এবং স্থায়ী জীবনে চুড়ান্ত সাফল্য অর্জনে আমাদের সাহায্য করার জন্য কুরআনুল হাকীম এর মাধ্যমে সত্যের বার্তা প্রেরণ করেছেন। মুক্ত মন-মানসিকতা নিয়ে এই বার্তার প্রতি গভীর চিন্তাভাবনা অসংখ্য জ্ঞানী, বিজ্ঞানী মানুষকে দীনের পথে অগ্রগামী হতে সরাসরি পথ প্রদর্শকের কাজ করেছে এই কুরআনুল হাকীম। তাদেরকে এই বিশ্বের প্রধান মালিক আল্লহ্‌’র সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। যে কেহ একবার এই কুরআনুল হাকীম এর নিকটবর্তী হলে এবং আল্লহ্’কে জানার চেষ্টা করলে সে প্রকৃত অর্থে সফলকাম হবে, আল্লহ্ বিষয়ক জ্ঞানে সে আলোকিত হবে এবং আত্ম-পরিচয় সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন হতে পারবে।

“আল্লহ্” শব্দটি এক অদ্বিতীয় উপাস্যের প্রকৃত নাম। আক্ষরিকভাবে শব্দটি “আল” (“আল” আক্ষর দুটি কোনো অনির্দিষ্ট শব্দকে নির্দিষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়) এবং “ইলাহ্‌” শব্দ মিলে গঠিত; আর ইলাহ্‌ শব্দের অর্থ: উপাস্য (সত্য ই’বাদতের প্রকৃত যোগ্য)। এমনিভাবে “আল্লহ্” হয়ে যায় “আল-ইলাহ” এবং এর অর্থ- এক এবং একমাত্র উপাস্য, এক প্রতিপালক ও স্রষ্টা এবং সার্বভৌম।

ইবনে তাইমিয়া (রহঃ)-র অভিমত: “আল্লহ্” (الله) শব্দটি আরবি মূল শব্দ “আলিহা” (أله) হতে উদ্ভূত, যেমন উলুহিয়্যাহ্‌। সুতরাং আল্লহ্‌ নামটি উপাসনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এমনিভাবে আরবি শব্দ “আল্লহ্‌”-র অর্থ হয়: “এমন একক সত্তা যিনি যাবতীয় উপাসনার যোগ্য”। খুব সংক্ষেপে এটাই হলো ইসলামের বিশুদ্ধ একত্ববাদের বার্তা। (মাজ্‌মুউল ফাতাওয়া: ২/৪৫৬)[২]
কুরআনুম মাজীদে সূরহ্ আল ইখলা-ছ এ-আল্লহ্ নিজের পরিপূর্ণ পরিচয় দিচ্ছেনঃ

বলুন, তিনি আল্লহ্, এক। আল্লহ্ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
Say: He is Allah, the One and Only. Allah, the Eternal, Absolute. He begetteth not, nor is He begotten. And there is none like unto Him.


সূরহ্ আলহাশর এর ২২ থেকে ২৪ আইয়াতে মহান আল্লহ বলেন-


তিনিই আল্লাহ তা’আলা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা।তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্নশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা’ আলা তা থেকে পবিত্র।
তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।
Allah is He, than Whom there is no other god;- Who knows (all things) both secret and open; He, Most Gracious, Most Merciful.
Allah is He, than Whom there is no other god;- the Sovereign, the Holy One, the Source of Peace (and Perfection), the Guardian of Faith, the Preserver of Safety, the Exalted in Might, the Irresistible, the Supreme: Glory to Allah! (High is He) above the partners they attribute to Him.
Allah is He, than Whom there is no other god;- the Sovereign, the Holy One, the Source of Peace (and Perfection), the Guardian of Faith, the Preserver of Safety, the Exalted in Might, the Irresistible, the Supreme: Glory to Allah! (High is He) above the partners they attribute to Him.


আল্লহ্‌’র সত্তার অদ্বিতীয়তাঃ
তাওহীদ নামে পরিচিত আল্লহ্ سبحانه و تعالى-এর একত্ববাদ, ইসলামি ধারণায় প্রথম এবং প্রধান সংবিধান। কারণ, এটা ইসলামি বিশ্বাসের মৌলিক সত্য। তাছাড়া এটি ইসলামি ধারণার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি। কারণ মানবসমাজে বর্তমানে প্রচলিত সমস্ত বিশ্বাসরীতি এবং দর্শনের মধ্যে কেবলমাত্র ইসলামি বিশ্বাসকে স্বচ্ছ বিশ্বাসের সঙ্গে একত্ববাদের নিরঙ্কুশ রূপ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

[Quran sora=”2″ aya=”255″]
“আল্লহ্‌ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির প্রতিপালক”। [সূরহ্ বাকারা ২:২৫৫]

[Quran sora=”2″ aya=”136″]
“আর তোমাদের উপাস্য একমাত্র আল্লহ্‌, সেই পরম করুণাময় অপার কৃপাশীল ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই”। [সূরহ্ বাকারা ২:১৬৩]

[Quran sora=”3″ aya=”2″]
“আল্লহ্‌- তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সমগ্র সৃষ্টির রক্ষণাবেক্ষণকারী”। [সূরহ্ আ-লি ইমর-ন ৩:২]

[Quran sora=”7″ aya=”59″]
[Quran sora=”7″ aya=”65″]
[Quran sora=”7″ aya=”85″]
“তোমরা আল্লহ্‌’র ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো উপাস্য নেই”। [সূরহ্ আ’রাফ ৭:৫৯, ৬৫, ৮৫]

[Quran sora=”20″ aya=”14″]

“নিশ্চয়ই আমিই আল্লহ্‌, আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণার্থে স্বালাত প্রতিষ্ঠা করো”। [সূরহ্ ত্ব-হা ২০:১৪]

[Quran sora=”21″ aya=”22″]
“যদি আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীতে আল্লহ্‌ ব্যতীত আরও বহু উপাস্য থাকত তাহলে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত; অতএব তারা যে বিবরণ দেয় তা হতে আরশের অধিপতি আল্লহ্‌ মহাপবিত্র”। [সূরহ্ আন্বিয়া ২১:২২]

[Quran sora=”21″ aya=”25″]
“আমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা আমার ইবাদত করো” [সূরহ্ আন্বিয়া ২১:২৫]

[Quran sora=”112″ aya=”1″]
“বলো: তিনিই আল্লহ্‌, তিনি এক”। [সূরহ্ ইখলাস ১১২:১]

[Quran sora=”39″ aya=”62″]
“আল্লহ্‌ সবকিছুর স্রষ্টা”। [সূরহ্ যুমার ৩৯:৬২]

[Quran sora=”6″ aya=”102″]
“তিনিই আল্লহ্‌ তোমাদের প্রতিপালক। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই; প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা তিনিই, সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো, কেননা তিনি সব জিনিসের কার্যনির্বাহী”। [সূরহ্ আনআ’ম ৬:১০২]

[Quran sora=”23″ aya=”91″]
“আল্লহ্‌ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অপর কোনো উপাস্যও নেই। যদি থাকত তাহলে প্রত্যেক উপাস্য স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বলে তা হতে আল্লহ্‌ সম্পূর্ণ পবিত্র”। [সূরহ্ মু’মিনুন ২৩:৯১]

[Quran sora=”25″ aya=”2″]
“(তিনি সেই সত্তা) যিনি আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী, তিনি সন্তান গ্রহণ করেননি এবং সার্বভৌত্বে তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তিনি প্রত্যেকটি জিনিসকে সৃষ্টি করেছেন এবং যথাযথ অনুপাতে প্রত্যেককে পরিমিত করেছেন”। [সূরহ্ ফুরক্বান ২৫:২]

[Quran sora=”59″ aya=”23″]
“আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত যাবতীয় বস্তুর আধিপত্য কেবল আল্লহ্‌’র”। [সূরহ্ মায়িদা ৫:১৭]
“তিনি আল্লহ্‌, যিনি ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই”। [সূরহ্ হাশ্‌র ৫৯:২৩]

[Quran sora=”35″ aya=”3″]
“হে মানুষ! তোমাদের প্রতি আল্লহ্‌’র অনুগ্রহকে স্মরণ করো। তিনি ব্যতীত অন্য কোনো স্রষ্টা আছে কি, যে আকাশ ও পৃথিবী থেকে তোমাদেরকে জীবিকা দান করে? তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। সুতরাং তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?” [সূরহ্ ফাত্বির ৩৫:৩]

[Quran sora=”29″ aya=”60″]
“এমন কত জীবজন্তু রয়েছে যারা নিজেদের জীবিকা সংরক্ষিত রাখে না। আল্লহ্‌ তাদেরকে এবং তোমাদেরকে জীবিকা প্রদান করেন এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ”। [সূরহ্ আন্‌কাবুত ২৯:৬০]

[Quran sora=”38″ aya=”65″]
“বলো, আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র এবং আল্লহ্‌ ব্যতীত কোনো মা’বুদ নেই, তিনি এক, পরাক্রমশালী”। [সূরহ্ ছ-দ ৩৮:৬৫]

[Quran sora=”3″ aya=”79″]
“কোনো নাবী আল্লহ্‌ ছাড়া অন্য কারো ইবাদতের প্রতি মানুষকে আহ্বান করেননি”। [সূরহ্ আ-লি ইমর-ন ৩:৭৯]

[Quran sora=”6″ aya=”46″]
“তুমি বলো, তোমরা কি ভেবেছ যদি আল্লহ্‌ তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের হৃদয়কে মোহরাঙ্কিত করে দেন তাহলে আল্লহ্‌ ব্যতীত আর কে আছে যে সেগুলো তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেবে? লক্ষ করো, আমি আমার নিদর্শনসমূহ ছড়িয়ে রেখেছি, এরপরও তারা তা হতে বিমুখ হচ্ছে”। [সূরহ্ আনআ’ম ৬:৪৬]

[Quran sora=”30″ aya=”26″]
“আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছুই তাঁর, সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ”। [সূরহ্ রূম ৩০:২৬]

[Quran sora=”16″ aya=”49″]
“আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীতে যত জীবজন্তু আছে তারা এবং ফেরেশ্তাগণ সবাই আল্লহ্‌ কেই সেজদা করে আর তারা অহংকার করে না”। [সূরহ্ নাহ্‌ল ১৬:৪৯]

[Quran sora=”9″ aya=”31″]
“তারা আল্লহ্‌কে ছেড়ে তাদের বিদ্বান এবং ধর্মযাজকদেরকে প্রভু বানিয়েছে এবং মারিয়ামের পুত্র মাসীহ্‌কেও। অথচ তারা আদিষ্ট ছিল যে, তারা কেবল আল্লহ্‌’র ইবাদত করবে, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই”। [সূরহ্ আত তাওবাহ ৯:৩১]

স্বীয় কার্যক্রমে আল্লহ্‌’র অদ্বিতীয়তাঃ
কুরআনুল কারীম এর সূরহ্ আল ফাতিহাহ্ এর প্রথম আইয়াতেই আল্লহ্‌ বলছেন যে, আল্লহ্‌ সমগ্র বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক। আরবি শব্দ “রব” এর অর্থ- স্রষ্টা, অধিপতি এবং একক সত্তা, যিনি তাদের সংশোধন এবং শিক্ষাদান করেন। এজন্য তিনি তাঁর নাবী-রসূলদের প্রেরণ করেন, তাঁর গ্রন্থসমূহ অবতীর্ণ করেন এবং তাদের সৎকর্মের জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করেন।
ইবনে কাইয়িম (রহঃ) বলেন: “বান্দাদেরকে সৎকর্মের নির্দেশ, তাদেরকে অসৎকর্ম হতে নিষেধ এবং সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কার প্রদান এবং দুষ্কর্মকারীদেরকে শাস্তি প্রদান, এসবই রবুবিইয়্যাহ-এর অন্তর্ভূক্ত”। (মাদারিজুস সুন্নাহ: ১/৮)
মহান আল্লহ্ কুরআনুল হাকীমে বলেন-

[Quran sora=”39″ aya=”62″]
“আল্লহ্‌ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনিই সবকিছুর ব্যবস্থাপক”। [সূরহ্ যুমার ৩৯:৬২]

[Quran sora=”11″ aya=”6″]
“তিনি সমস্ত প্রাণী, মানুষ তথা প্রত্যেক জিনিসের ব্যবস্থাপক। ভূপৃষ্ঠের প্রত্যেক প্রাণীর জীবিকা শুধুমাত্র আল্লহ্‌’র পক্ষ হতে আসে”। [সূরহ্ হূদ ১১:৬]

[Quran sora=”3″ aya=”26″]
[Quran sora=”3″ aya=”27″]
“তুমি বলো, হে আল্লহ্‌! হে রাজ্যাধিপতি! আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার নিকট হতে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন, যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্ছিত করেন; আপনার হাতেই যাবতীয় কল্যাণ, নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। আপনি রাত্রিকে দিনে এবং দিনকে রাত্রিতে পরিবর্তিত করেন; আপনি মৃত হতে জীবিতকে নির্গত করেন এবং জীবিত হতে মৃতকে নির্গত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করেন”। [সূরহ্ আ-লি ইমর-ন ৩:২৬-২৭]

[Quran sora=”31″ aya=”11″]
“আল্লহ্‌ স্বীয় আধিপত্যে কোনো অংশীদার বা সহায়কের বিষয়কে অস্বীকার করেছেন, ঠিক যেমন তিনি অস্বীকার করেছেন তাঁর সৃষ্টি এবং ব্যবস্থাপনায় কোনো অংশীদারের বিষয়টিকে। আল্লহ্‌ বলছেন: “এটা আল্লহ্‌’র সৃষ্টি, তিনি ব্যতীত অন্যরা কী সৃষ্টি করেছে তা তোমরা আমাকে দেখাও”। [সূরহ্ লুক্বমান ৩১:১১]

[Quran sora=”67″ aya=”21″]
“এমন কে আছে যে তোমাদেরকে জীবিকা দান করতে পারে, যদি তিনি জীবিকা বন্ধ করে দেন?” [সূরহ্ মুল্‌ক ৬৭:২১]

[Quran sora=”23″ aya=”86″]
[Quran sora=”23″ aya=”87″]
[Quran sora=”23″ aya=”88″]
[Quran sora=”23″ aya=”89″]
“আল্লহ্‌ সমস্ত সৃষ্টিকে স্বভাবধর্মের (ফিত্‌রাত) উপর সৃষ্টি করেছেন যা তাঁর রবুবিয়্যাতকে সুনিশ্চিত করে দেয়। সেই সৃষ্টির অন্তর্ভূক্ত রয়েছে মুশরিক্‌রাও, যারা ইবাদতে আল্লহ্‌’র অংশীদার স্থাপন করে। আল্লহ্‌ রবুবিয়্যাতে স্বীয় সার্বভৌমত্বের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন: “জিজ্ঞাসা করো: সপ্তাকাশ এবং মহা-আরশের প্রতিপালক কে? তারা বলবে: আল্লহ্‌। জিজ্ঞাসা করো: তাহলে তোমরা আল্লহ্‌কে ভয় করছ না কেন? জিজ্ঞাসা করো: যদি তোমরা জানো তবে বলো: সবকিছুর কর্তৃত্ব কার হা্তে যিনি সকলকে নিরাপত্তা দেন, কিন্তু তাঁকে নিরাপত্তা দেয়ার কেউ নেই? তারা বলবে: আল্লহ্‌’র। বলো, তবুও তোমরা কেমন করে বিভ্রান্ত হচ্ছ?” [সূরহ্ মু’মিনুন ২৩:৮৬-৮৯]
[Quran sora=”60″ aya=”68″]
“ তিনি একা, আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। তোমাদের জন্য আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তিনি পৃথিবীকে বাসোপযোগী করেছেন এবং তার মধ্যে নদীনালা প্রবাহিত করেছেন। দৃঢ়ভাবে পর্বত স্থাপন করেছেন এবং দুই সমুদ্রের মাঝে সৃষ্টি করেছেন অন্তরায়। তিনি আর্তের আহ্বানে সাড়া দেন। তিনি তোমাদেরকে স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ দেখান। স্বীয় অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন। আকাশ ও পৃথিবী হতে তোমাদেরকে জীবিকা দান করেন। কেবল তিনিই অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন। [সূরহ্ আন নাম্‌ল, আইয়াত ৬০,৬৪]

স্বীয় নামসমূহে আল্লহ্‌’র অদ্বিতীয়তাঃ
[Quran sora=”35″ aya=”82″]
আল্লহ্‌’র নামসমূহ অতুলনীয়। তাঁর নামসমূহ বিশেষ কোনো সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর কিছু নাম আমরা জানি আর কিছু জানি না। যেমন আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর হাদিসে বিষয়টি বিবৃত হয়েছে। তিনি বলছেন: রসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে দুঃখ-দুর্দশায় জর্জরিত হওয়ার সময় বলে: হে আল্লহ্‌! আমি তোমার বান্দা ……। “আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এমন প্রত্যেক নামের সাহায্যে, যে নামে তুমি নিজেকে নামাঙ্কিত করেছ, অথবা তোমার গ্রন্থে অভিব্যক্ত করেছ, কিংবা তোমার কোনো সৃষ্টিকে শিখিয়েছ, কিংবা অদৃশ্যের জ্ঞানের মধ্যে নিজের সঙ্গে সংরক্ষিত রেখেছ……”।(মুস্‌নাদে আহ্‌মাদ: ৩৫৮২)
[Quran sora=”7″ aya=”180″]
আল্লহ্‌’র সমস্ত নাম উত্তম। যেমন তিনি বলছেন: ““আর আল্লহ্‌’র সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে; সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকবে। আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নাম বিকৃত করে; সত্বরই তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের ফল দেয়া হবে”। [সূরহ্ আ’রাফ ৭:১৮০]
“আল্লহ্‌” নামটি ওই একক সত্তাকে বোঝায় যাঁর ইবাদত ও আরাধনা করা হয়, যিনি দেবত্বের যাবতীয় গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং যাঁর সামনে তাঁর সমস্ত সৃষ্টি পরাভূত। উপাস্যের যে সমস্ত গুণ ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তিনি নিজেকে বিশিষ্ট করেছেন, সেগুলো পূর্ণাঙ্গতার বৈশিষ্ট্য।

আল্লহ্‌’র কতিপয় নামঃ
আররহমা-ন (পরম করুণাময়),
আররহীম (অসীমদয়ালু) ,
আছছমাদ্ (স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা, যাঁকেসকল প্রাণীর প্রয়োজন, তিনি পানাহার করেন না),
আসসামীউ’ (সর্বশ্রোতা), তিনি সমস্ত ধ্বনি শুনতে পান সেটা যে ভাষায় হোক না কেন, ভাষা যতই বেশি ও বৈচিত্রময় হোকতাঁর জন্য সেটা কোনো ব্যাপার না।
আলকারীম (সর্বাধিক উদার),
আলজাওওয়াদ (উদার),
আররঊফ (সহানুভূতিশীল),
আলওয়াহহা-ব (সর্বদাতা),
আলআ’লীম (সর্বজ্ঞ),
আলহাকীম (প্রজ্ঞাময়)।
আল্লহ্‌’র অধিকাংশ নামই তাঁর নাম এবং গুণ উভয়কেই বোঝায়।

স্বীয় গুণাবলিতে আল্লহ্‌’র অদ্বিতীয়তাঃ
[Quran sora=”59″ aya=”23″]
“আল্লহ্‌ বিশ্বের প্রতিটি জিনিসের প্রকৃত অধিপতি এবং সার্বভৌম।” [সূরহ্ হাশ্‌র ৫৯:২৩]
[Quran sora=”19″ aya=”64″]
“আমাদের সম্মুখে এবং পশ্চাতে যা কিছু আছে এবং যা কিছু এ দুয়ের অন্তর্বর্তী, সবই তাঁর; আর তোমার প্রতিপালক ভুলো নন।” [সূরহ্ মারিয়াম ১৯:৬৪]
[Quran sora=”13″ aya=”2″]
“কেবল আল্লহ্‌ বিশ্বের সকল বিষয়ের নিয়ন্তা।” [সূরহ্ আরর-দ ১৩:২]
[Quran sora=”13″ aya=”16″]
“বলো, তবে কি তোমরা আল্লহ্‌ ব্যতীত অপরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছ যারা নিজেদের লাভ ও ক্ষতি সাধনে অক্ষম?” [সূরহ্ রা’দ ১৩:১৬]
[Quran sora=”36″ aya=”82″]
“তাঁর ব্যাপার শুধু এই যে, যখন তিনি কোনো কিছু করার ইচ্ছা করেন তখন তিনি বলেন: হও, ফলে তা হয়ে যায়”। [সূরহ্ ইয়াসীন ৩৬:৮২]
[Quran sora=”76″ aya=”30″]
“তোমরা ইচ্ছা করবে না যদি না আল্লহ্‌ ইচ্ছা করেন, নিশ্চয়ই আল্লহ্‌ সর্বজ্ঞ এবং প্রজ্ঞাবান”। [সূরহ্ ইনসান ৭৬:৩০]
[Quran sora=”66″ aya=”1″]
“কোনো কিছুকে বৈধ-অবৈধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কেবল আল্লহ্‌’র রয়েছে, কারণ তিনিই আইনপ্রণেতা।” [সূরহ্ আততাহ্‌রীম ৬৬:১]
[Quran sora=”7″ aya=”188″]
“কেবল আল্লহ্‌ অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন।” [সূরহ্ আ’রাফ ৭:১৮৮]
[Quran sora=”67″ aya=”14″]
[Quran sora=”57″ aya=”8″]
“শুধুমাত্র আল্লহ্‌ হৃদয়ের রহস্যের জ্ঞান রাখেন।” [সূরহ্ মুল্‌ক ৬৭:১৪, ১৪, সূরহ্ হাদীদ ৫৭:৪]
[Quran sora=”17″ aya=”13″]
[Quran sora=”34″ aya=”36″]
”কেবল আল্লহ্‌ জীবিকা প্রদান করেন/প্রত্যাহার করেন/বৃদ্ধি করেন/নিয়ন্ত্রণ করেন।” [সূরহ্ ইস্‌রা ১৭:১৩, সূরহ্ সাবা ৩৪:৩৬]
[Quran sora=”42″ aya=”49″]
[Quran sora=”42″ aya=”50″]
“শুধুমাত্র আল্লহ্‌ সন্তান (পুত্র ও কন্যা) দান করেন।” [সূরহ্ শুরা ৪২:৪৯, ৫০]
[Quran sora=”26″ aya=”78″]
[Quran sora=”26″ aya=”79″]
[Quran sora=”26″ aya=”80″]
[Quran sora=”26″ aya=”81″]
[Quran sora=”26″ aya=”82″]
“আল্লহ্‌ সেই একক সত্তা যিনি পথপ্রদর্শন করেন, আহার্য ও পানীয় দান করেন, রোগমুক্ত করেন, স্বাস্থ্য দান করেন, জীবন ও মৃত্যু দান করেন এবং অপরাধ ক্ষমা করেন।” [সূরহ্ শুআরা ২৬:৭৮-৮২]
[Quran sora=”11″ aya=”88″]
“শুধুমাত্র আল্লহ্‌ খাদ্য-সম্ভার এবং সাফল্য দান করেন।” [সূরহ্ হূদ ১১:৮৮]
[Quran sora=”84″ aya=”11″]
“আল্লহ্‌ কেবল লাভ বা ক্ষতি সাধন করতে পারেন এবং ভাগ্যের ভালোমন্দের মালিক কেবল তিনিই।”[সূরহ্ ফাত্‌হ ৪৮:১১]
[Quran sora=”40″ aya=”60″]
“জীবন এবং মরণের উপর নিয়ন্ত্রণ শুধু আল্লহ্‌ রাখেন।”[সূরহ্ গাফির ৪০:৬৮]

ইবাদত (উপাসনা) শুধুমাত্র আল্লহ্‌’র জন্যঃ
ইবাদতের অর্থঃ
ইবনে কাসির (রহঃ) ইবাদতের সংজ্ঞা দিচ্ছেন: এমন এক অবস্থা যাতে পরিপূর্ণ অনুরাগ, আনুগত্য এবং ভীতির সম্মিলন ঘটে। এটি একটি ব্যাপক পরিভাষা, যার অন্তর্ভূক্ত ওই সমস্ত কর্ম ও কথা যা আল্লহ্‌’র নিকট পছন্দনীয়।
মূলত: আল্লহ্‌’র নির্দেশাবলি পালন এবং এমন কিছু করা যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন, তাই ইবাদত, আর যাবতীয় কাজ কর্মে রসূল স. নির্দেশিত পন্থা আন্তরিকতার সাথে অবলম্বনের মাধ্যমে আল্লহ্’র সন্তুষ্টি অর্জনে নিবেদিত হওয়াই গোলামের একমাত্র কাজ।

■ ইবাদতের দু’টি শর্তঃ
১। আন্তরিকতা
২। অনুকরণ

■ স্বভাবসিদ্ধ কর্ম (অনুমোদিত, যতক্ষণ না তার অন্যথা সাব্যস্ত হয়)
স্বভাবসিদ্ধ কাজও ধর্মীয় কাজে রূপান্তরিত হতে পারে, তবে তার একটি শর্ত রয়েছে। তা হলো: আন্তরিকতার সাথে কেবল আল্লহ্‌’র উদ্দেশ্যে করতে হবে। স্বভাবসিদ্ধ কর্মে যেন কোনো শির্‌ক না থাকে।

■ ধর্মীয় কর্ম (অনুনুমোদিত, যতক্ষণ না তা প্রমাণিত হয়)
– আন্তরিকতা (অশুদ্ধ উদ্দেশ্য গ্রহণীয় নয়)
– অনুকরণ (এটা যেন সুন্নাতের অনুকরণে হয়, রসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বলেছেন: “যে কেউ ধর্মের মধ্যে এমন কিছু আবিষ্কার করল যা আমরা নির্দেশ করিনি তা প্রত্যাখ্যাত”। (সহি বুখারি: ৩/৮৬১)

ঘৃণ্যতম মহাপাপ হলোঃ
– আল্লহ্‌’র সাথে শির্‌ক,
– আল্লহ্‌’র শাস্তি হতে নিরাপদ বোধ,
– আল্লহ্‌’র অনুগ্রহ হতে নৈরাশ্য এবং
– তাঁর সাহায্য হতে নৈরাশ্য।

কুরআন হতে কয়েকটি উদ্ধৃতি
[Quran sora=”18″ aya=”110″]
“আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই নিকট সাহায্য কামনা করি।” [সূরহ্ আলফা-তিহাহ্ ১:৪]
“সুতরাং যে কেউ স্বীয় প্রতিপালকের সাক্ষাত আশা করে সে যেন সৎকর্ম করে এবং স্বীয় প্রভুর ইবাদতে কাউকে অংশীদার না করে।” [সূরহ্ কাহ্‌ফ ১৮:১১০]
[Quran sora=”40″ aya=”60″]
“আর তোমার প্রতিপাল বলেন: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত-বিমুখ, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” [সূরহ্ মু’মিন ৪০: ৬০]
[Quran sora=”26″ aya=”18″]
“এবং নিশ্চয়ই মসজিদগুলি আল্লহ্‌’র জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লহ্‌’র সঙ্গে অন্য কাউকে ডেকো না।” [সূরহ্ জিন ৭২:১৮]
[Quran sora=”23″ aya=”117″]
“”যে ব্যক্তি আল্লহ্‌’র সাথে ডাকে অন্য কোনো উপাস্যকে যার বিষয়ে তার নিকট কোনো প্রমাণ নেই, তার হিসাব আল্লহ্‌’র নিকট রয়েছে। নিশ্চয়ই অবিশ্বাসীরা সফলকাম হবে না।” [সূরহ্ নূর ২৩:১১৭]
[Quran sora=”2″ aya=”186″]
“আর যখন আমার বান্দারা তোমাকে আমার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে (তখন তাদেরকে বলে দাও) যে, নিশ্চয়ই আমি অতি নিকটে রয়েছি। আহ্বাবকারী যখনই আমাকে আহ্বান করে তখনই আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, তবেই তারা সুপথপ্রাপ্ত হবে।” [সূরহ্ আলবাকরহ্ ২:১৮৬]
[Quran sora=”26″ aya=”62″]
“যখন নিরুপায় ব্যক্তিরা তাঁকে ডাক দেয় তখন তার ডাকে কে সাড়া দেয়, কে তার বিপদাপদ দূরীভূত করে এবং কে তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করে? আল্লহ্‌’র সাথে অন্য কোনো মা’বুদ আছে কি? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।” [সূরহ্ আননাম্‌ল ২৭:৬২]

কেবল আল্লহ্‌ জীবনের স্রষ্টা, এর প্রমাণঃ
[Quran sora=”7″ aya=”185″]
“আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীর আধিপত্ব সম্পর্কে এবং আল্লহ্‌ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে ব্যাপারে তারা কি কোনো গভীর চিন্তা করে না? তাদের জীবনের নির্দিষ্ট মিয়াদটি পূর্ণ হবার সময় হয়তো বা নিকটে এসে পড়েছে, তারা কি এটাও চিন্তা করে না? তাহলে কুরআনের পর তারা আর কোন্‌ কথার প্রতি ঈমান আনয়ন করবে?” [সূরহ্ আ’রাফ ৭:১৮৫]
[Quran sora=”16″ aya=”17″]
“সুতরাং যিনি সৃষ্টি করেন, তিনি কি তারই মতো, যে সৃষ্টি করে না? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?” [সূরহ্ নাহ্‌ল ১৬:১৭]
[Quran sora=”22″ aya=”73″]
“হে লোক সকল! একটি উদাহরণ দেয়া হচ্ছে, মনোযোগসহকারে তোমরা তা শ্রবণ করো। তোমরা আল্লহ্‌’র পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো তারা একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদি এ উদ্দেশ্যে তারা সকলে একত্রিত হয়। এবং মাছি যদি সবকিছু তাদের নিকট হতে ছিনিয়ে নিয়ে যায়, তবুও তারা ওর নিকট হতে কিছুই উদ্ধার করতে পারবে না। পূজারী এবং দেবতা উভয়ই দুর্বল।” [সূরহ্ আলহাজ্জ ২২:৭৩]
[Quran sora=”25″ aya=”3″]
“কিন্তু তারা তাঁর পরিবর্তে এমন কিছু উপাস্য গ্রহণ করেছে যারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং তারা নিজেদের উপকার বা অপকার করার কোনো ক্ষমতা রাখে না এবং জীবন বা মৃত্যু বা পুনরুত্থানের উপরও কোনো ক্ষমতা রাখে না।” [সূরহ্ ফুরকান ২৫:৩]
[Quran sora=”67″ aya=”2″]
“তিনি সেই সত্তা যিনি মরণ এবং জীবনকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মধ্যে কার কর্মকাণ্ড সর্বোত্তম।” [সূরহ্ মুল্‌ক ৬৭:২]
“ইমাম বুখারি (রহঃ) তাঁর সহিতে আবু সাঈদ (রাঃ)-র সূত্রে একটি হাদিস নিয়ে এসেছেন। তাতে রসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বলেছেন: “প্রত্যেক প্রাণীকে শুধুমাত্র আল্লহ্‌ সৃষ্টি করেছেন”। আরবি শব্দ “খালাকা”-র অর্থ: “এমন কিছুকে অস্তিত্ব দান করা, পূর্বে যার কোনো অস্তিত্ব ছিল না”। একাজ শুধু আল্লহ্‌ করতে পারেন। আল্লহ্‌ ব্যতীত অন্য কারো জন্য এমন কাজ করা সম্ভবপর নয়। এর মধ্যে স্থির বা পূর্বনির্ধারণের অর্থও পাওয়া যায়।” (ফাত্‌হুল বারি: ১৩/৩৯০) [১২]

আল্লহ্‌ কোথায় আছেন?
আল্লহ্‌ সপ্তাকাশের উপর স্বীয় আরশে উপবিষ্ট আছেন।
[Quran sora=”10″ aya=”3″]
“নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লহ্‌ যিনি আকাশমণ্ডলি পৃথিবীকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর সসম্মানে সমুন্নীত হয়েছেন।” [সূরহ্ ইউনুস ১০:৩]
[Quran sora=”20″ aya=”5″]
“পরম করুণাময় (আল্লহ্) আরশের উপর সমুন্নীত হলেন (তাঁর মর্যাদার যথোপযুক্ত নিয়মে)।” [সূরহ্ ত্ব-হা ২০:৫]
[Quran sora=”70″ aya=”4″]
“যখন আল্লহ্‌ বললেন: হে ইসা! আমি তোমাকে নিয়ে নেব এবং আমার নিকট উত্তোলন করব।” [সূরহ্ আ-লি ইমর-ন ৩:৫৫]
“ফেরেশ্তাগণ তাঁর দিকে উর্ধ্বগামী হন।” [সূরহ্ মাআ’রিজ ৭০:৪]
[Quran sora=”35″ aya=”10″]
“প্রত্যেক পবিত্র বাণী তাঁর দিকে আরোহণ করে।” [সূরহ্ ফা-ত্বির ৩৫:১০]
[Quran sora=”16″ aya=”102″]
“প্রত্যাদেশ তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়।” [সূরহ্ নাহ্‌ল ১৬:১০২]
[Quran sora=”16″ aya=”50″]
“তোমার প্রতিপালক তোমাদের উপর পরাক্রমশালী যাঁকে তোমরা ভয় করো।” [সূরহ্ নাহ্‌ল ১৬:৫০]
এছাড়া কুরআনুল কারীমে আরও অনেক প্রমাণ বর্তমান। যা থেকে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, আল্লহ্‌ স্বীয় সৃষ্টির উপর পরাক্রমশালী।
“উত্তম ব্যতীত অন্য কিছু আল্লহ্‌’র দিকে আরোহণ করে না।” (সহি বুখারি: ৯/৫২৫, সহি মুসলিম: ১৩২০)
“আল্লহ্‌ একটি গ্রন্থ লিখেছেন যা তাঁর নিকট আরশের উপর বিদ্যমান রয়েছে।” (সহি বুখারি: ৯/৫১৮)
“যায়নাব (রাঃ) বলছেন: আল্লহ্‌ সপ্তাকাশের উপর হতে তাঁর বিবাহ দিয়েছিলেন।” (সহি বুখারি: ৯/৫১৭)
– আব্দুল্লাহ্‌ ইবনে আম্‌র ইবনে আ’স (রাঃ) হতে বর্ণিত, নাবী মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেন: “মহাসহানুভূতিশীল সত্তা ওই সমস্ত লোকদের উপর অনুগ্রহ করেন যারা অনুগ্রহশীল। যদি তোমরা ভূপৃষ্ঠে বাসরত লোকদের উপর দয়া করো তাহলে যিনি আকাশে আছেন, তিনি তোমাদের উপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করবেন। (আবুদাউদ: ৪৯৪১ ও তিরমিযি: ১৯২৪)

– ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করছেন: যখন নাবী মুহাম্মাদ ﷺ মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন তখন তাঁকে বলেছিলেন: তুমি আহ্‌লে কিতাবের একটি সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদেরকে সর্বপ্রথম যে বিষয়টির প্রতি আহ্বান করবে সেটি হবে আল্লহ্‌’র একত্ববাদ। যদি তারা সেটা স্বীকার করে নেয় তাহলে তুমি তাদেরকে বলবে যে, আল্লহ্‌ তাদের জন্য প্রত্যহ দিবারাত্রে পাঁচ ওয়াক্তের স্বালাত অপরিহার্য করেছেন। যদি তারা তা করে তাহলে তাদের বলো: আল্লহ্‌ তাদের উপর তাদের সম্পত্তির যাকাত ফরজ করেছেন। এটা বিত্তাবানদের নিকট থেকে নিয়ে বিত্তহীনদেরকে দেয়া হবে। যদি তারা তাতেও সম্মত হয় তাহলে তাদের নিকট হতে যাকাত নাও, কিন্তু মানুষের সর্বোত্তম সম্পত্তি হতে বিরত থাকবে।

– মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) বর্ণনা করছেন: রসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বলেন: “হে মুআয! তুমি কি জানো স্বীয় বান্দার উপর আল্লহ্‌’র কী অধিকার আছে?” আমি বললাম: “আল্লহ্‌ এবং তাঁর রসূল বেশি জানেন”। নাবী মুহাম্মাদ ﷺ বললেন: “তাঁর ইবাদত করা এবং ইবাদতে তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশী না করা। তুমি কি জানো তাঁর উপর তাদের কী অধিকার আছে?” আমি উত্তর দিলাম: “আল্লহ্‌ এবং তাঁর রসূল বেশি জানেন”। নাবী মুহাম্মাদ ﷺ বললেন: তাদেরকে শাস্তি না দেয়া (যদি তারা তেমনটি করে)”। (সহি বুখারি: ৯/৪৭০) [১৩] [১৪]

আল্লহ্‌’র করুণাঃ
আল্লহ্‌ পরম করুণাময়। তিনি আমাদেরকে জাহান্নামে প্রবিষ্টি করতে চান না। তাই তো তিনি তাঁর অনুগ্রহের পরিসর এতটাই বিস্তীর্ণ রেখেছেন যে, আমাদের সৎকর্মগুলিকে তিনি বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন এবং আমাদেরকে অসংখ্যবার ক্ষমা করেন।
[Quran sora=”4″ aya=”40″]
“নিশ্চয়ই আল্লহ্‌ বিন্দুমাত্র অন্যায় করেন না, যদি কোনো সৎকার্য থাকে তাহলে তিনি সেটাকে দ্বিগুণ করে দেন এবং তিনি নিজের নিকট হতে মহাপ্রতিদান প্রদান করেন”। [সূরহ্ নিসা ৪:৪০]
[Quran sora=”6″ aya=”160″]
“যে কেউ (কিয়ামতদিবসে) একটি সৎকর্ম নিয়ে আসবে তাকে তার দশগুণ প্রতিদান দেয়া হবে এবং যে দুষ্কর্ম করবে তাকে শুধু ততটুকুই প্রতিফল দেয়া হবে যতটুকু সে করেছে, আর তারা অত্যাচারিত হবে না”। [সূরহ্ আন্‌আম ৬:১৬০]

-নাবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর বাণী: ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ ﷺ মহাদয়াময় আল্লহ্‌ হতে বর্ণনা করছেন: “নিশ্চয়ই আল্লহ্‌ সৎ ও অসৎকর্ম লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, অতঃপর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি কোনো সৎকর্মের সংকল্প গ্রহণ করল কিন্তু তা সম্পাদন করল না, আল্লহ্‌ তার জন্য একটি পূর্ণ সৎকর্মের সওয়াব লিখে দেন। আর যদি সে সংকল্প গ্রহণের পর কার্যত তা সম্পাদন করে তাহলে আল্লহ্‌ তার জন্য দশ থেকে সাতশোগুণ বরং তার থেকেও বেশি সওয়াব লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি কোনো দুষ্কর্মের সংকল্প করে কিন্তু কার্যত তা সম্পাদন করেনা, তার জন্য আল্লহ্‌ একটি সওয়াব লিখেন। আর যদি সে ইচ্ছা করার পর কার্যত তা করে ফেলে তাহলে আল্লহ্‌ কেবল একটিই গোনাহ্‌ লিপিবদ্ধ করেন”। (সহি মুস্‌লিম: ২৩৭)

আল্লহ্‌’র দয়া ও অনুগ্রহ সীমাহীন। আল্‌হামদু লিল্লাহ্‌ !
[Quran sora=”22″ aya=”74″]
“তারা আল্লহ্‌’র যথোচিত মর্যাদা উপলব্ধি করতে পারে না; নিশ্চয়ই আল্লহ্‌ মহাক্ষমতাবান ও পরাক্রমশালী”। [সূরহ্ হাজ্জ ২২:৭৪]

[প্রথম সংকরণ-21-02-2019; সংকলনটি পরিমার্জিত করা হবে এবং আইয়াত যুক্ত করা হবে, এবং সরল অনুবাদ পুন:নিরীক্ষণ করা হবে, ইংশা আল্লহ]

Who is Alloh – আল্লহ্ কে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to top